বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ১০:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ফোন কলের সুত্র ধরে অপহরণের ১৩ দিন পর শিশু উদ্ধার

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় অপহরণের ১৩ দিন পর ১১ বছর বয়সী এক কিশোরীকে তার পরিবার উদ্ধার করেছে, ফোন কলের সুত্র ধরে। কেন্দুয়া থানা পুলিশ এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোসলেম উদ্দিন (৩৭) নামে এক অটোরিকশা চালককে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কেন্দুয়া পৌরসভার সৌদপাড়া এলাকার ভাড়াটিয়া।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, উপজেলার গান্ডা ইউনিয়নের মরিচপুর গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত অটোরিকশা চালক মোসলেম নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার গান্ডা ইউনিয়নের মরিচপুর গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৭ মার্চ ভুক্তভোগী উপজেলা পৌরসভার সৌদপাড়া এলাকা থেকে রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের রোয়াইল গ্রামে তার আত্মীয়ের বাড়িতে যান।

সেই সময় তার বাবা তাকে একটি অটোরিকশায় করে নামিয়ে দেন। তারপর থেকে ভুক্তভোগীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনটিও বন্ধ ছিল, যা পরিবারকে চিন্তিত করে তোলে। নিখোঁজের কয়েকদিন পর, ভুক্তভোগী তার বোনকে ফোনে জানায় যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে।

পরে, ১৯ মার্চ, পরিবার কেন্দুয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, ‘৭ মার্চ সকালে তার মেয়ে তার গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার জন্য কেন্দুয়া থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু সে আর বাড়ি যায়নি। তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। আমরা দরিদ্র মানুষ, তাই আমরা লোকেদের খবর দেইনি এবং তাকে খুঁজলেও আমরা তাকে পাইনি।

হঠাৎ, ১৮ মার্চ তার বোনকে মোবাইল ফোনে জানানো হয় যে তাকে অপহরণ করা হয়েছে। এরপর আমরা থানায় অভিযোগ জানাতে যাই এবং অপহরণকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।

কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘৭ মার্চ ১১ বছরের এক মেয়েকে অপহরণ করা হয়। ১৮ মার্চ মেয়েটির বড় বোনের মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। মেয়েটিকে জানানো হয় যে অপর প্রান্ত থেকে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছে। পরে মেয়েটির বাবা পুলিশকে অবহিত করে থানায় অপহরণের মামলা দায়ের করেন।

ওসি আরও বলেন, ‘ফোন কলের ভিত্তিতে পুলিশ বুধবার উপজেলার গান্ডা ইউনিয়নের মরিচপুর গ্রামের বাসিন্দা মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি মেয়েটিকে উদ্ধার করেন।’

ওসি মিজানুর রহমান আরও বলেন, ‘মেয়েটি খুবই অসুস্থ। এই অবস্থায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। মেডিকেল রিপোর্টে ধর্ষণের চিহ্ন দেখা গেলে বিষয়টি মামলায় যুক্ত করা হবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার মোসলেম উদ্দিনকে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি।’ তিনি বলেন, এই অপরাধের সাথে জড়িত অন্যান্যদেরও শীঘ্রই গ্রেপ্তার করা হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page

প্রযুক্তি সহায়তায় রায়তাহোস্ট