বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ভারতের সাথে উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তান সফল ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা

পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করার দাবি করেছে
পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করার দাবি করেছে

জিও নিউজ, এনডিটিভি: জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুকধারীদের হামলার পর ভারতের সাথে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে, পাকিস্তান একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। শনিবার, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ৪০০ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটি পরীক্ষা করার দাবি করেছে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, শনিবার সেনাবাহিনী ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষা চালিয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি ৪৫০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ইসলামাবাদ দাবি করেছে যে আবদালি অস্ত্র ব্যবস্থা (AWS) নামক এই ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘সিন্ধু’ সামরিক মহড়ার অংশ হিসাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল।

জম্মু ও কাশ্মীরের পেহেলগামে ভয়াবহ হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যখন উত্তেজনা চরমে, তখন পাকিস্তান আবদালি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম NDTV জানিয়েছে যে ভারত তার প্রতিবেশী দেশটির এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষাকে “গুরুতর উস্কানি” হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

ইসলামাবাদ বলেছে, “AWS ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের উদ্দেশ্য ছিল সেনাবাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি পরীক্ষা করা এবং ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত ক্ষমতা প্রদর্শন করা।”

Pakistan conducts successful training launch of surface-to-surface  Shaheen-II ballistic missile | Arab News

পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধানরা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য সকল বাহিনীর অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং কৌশলগত ক্ষমতার উপর “পূর্ণ আস্থা” প্রকাশ করেছেন।

পহেলগামে ভয়াবহ হামলার পর থেকে, ভারত-পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলছে। উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনী প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে।

কাশ্মীরে হামলার পর, পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ দাবি করেছিলেন যে ভারত আগামী ৩৬ ঘন্টার মধ্যে পাকিস্তানে আক্রমণ করতে পারে। কিন্তু তার দাবির ৭২ ঘন্টা পরেও, কোনও প্রকৃত ভারতীয় আক্রমণ হয়নি। এর আগে, ২৯ এপ্রিল, পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফ বলেছিলেন যে ভারত আগামী ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে পাকিস্তানে আক্রমণ করতে পারে।

২২শে এপ্রিল, কাশ্মীরের পেহেলগামে বন্দুক হামলায় ২৫ জন ভারতীয় এবং একজন নেপালি নাগরিক নিহত হন। এই হামলা হিন্দু-প্রধান ভারতে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। একই সাথে, মুসলিম-প্রধান পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের দাবিও ভারতে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ভারত কয়েক দশক ধরে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে স্বাধীনতাকামী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সমর্থন করার অভিযোগ এনেছে। হিমালয় অঞ্চলের সীমান্তবর্তী এই বিতর্কিত অঞ্চল নিয়ে অতীতে দুই প্রতিবেশী দেশ দুবার যুদ্ধ করেছে।

পেহেলগামে হামলার পর, ভারত পাকিস্তানের সাথে স্বাক্ষরিত ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ বাতিল করে এবং পাকিস্তানি নাগরিকদের জন্য সমস্ত ভিসা বাতিল করে। একই সাথে, দেশে অবস্থানরত পাকিস্তানি নাগরিকদের একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

ভারতীয় এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায়, পাকিস্তান ভারতের সাথে স্বাক্ষরিত ‘সিমলা চুক্তি’ও বাতিল করে। এই হামলার পর, দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের তীব্র অবনতি ঘটেছে। ভারত ইতিমধ্যেই পাকিস্তান থেকে সকল ধরণের পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে এবং পাকিস্তানি পতাকাবাহী জাহাজগুলিকে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page

প্রযুক্তি সহায়তায় রায়তাহোস্ট