ইন্দোনেশিয়ায়, ঈদুল আযহা স্থানীয়ভাবে ‘ঈদ আল-আযহা’, ‘ঈদ আল-জুহা’, ‘হারি রায়া হাজি’ বা ‘বকর-ঈদ’ নামেও পরিচিত। এই উৎসব কেবল ধর্মীয় ভক্তি সম্পর্কে নয়, বরং সামাজিক সংহতি ও দানশীলতার শিক্ষার গভীরে প্রোথিত।
ঈদের আগের রাতে একটি অনন্য রীতি পালন করা হয় – ‘তাকবিরান’। এই সময়ে মসজিদ, বাড়িঘর এবং রাস্তাঘাট ‘আল্লাহু আকবর’-এর সম্মিলিত ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে।
যদিও মুসলিম বিশ্বে সর্বাধিক ব্যবহৃত শুভেচ্ছা হল ‘ঈদ মোবারক’, ইন্দোনেশিয়ায় এই বাক্যাংশটি খুব একটা প্রচলিত নয়। বরং বলা হয় – ‘মিনাল আইদিন ওয়াল ফায়দিন, মোহান মাফ লাহির দান বাতিন’। এর প্রথম অংশটি আরবি এবং এর অর্থ, ‘আল্লাহ আমাদের পবিত্রদের কাতারে অন্তর্ভুক্ত করুন এবং আমাদের বিজয়ীদের কাতারে স্থান দিন’।

দ্বিতীয় অংশটি ইন্দোনেশীয় ভাষায়, যার অর্থ ‘আমি শারীরিক ও মানসিকভাবে তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি’। এই বাক্যাংশটি ক্ষমা চাওয়া এবং আত্মশুদ্ধির গুরুত্বের উপর জোর দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা ঈদুল আযহার আধ্যাত্মিক তাৎপর্যকে আরও গভীর করে।
ইন্দোনেশিয়ায়, ঈদুল আযহা (হরি রায়া হাজি) উপলক্ষে, লোকেরা সাধারণত একে অপরকে বলে: ‘সেলামাত ঈদুল আযহা’ বা ‘সেলামাত হারি রায়া হাজি’, যার অর্থ ‘শুভ ঈদ’। ঈদের সকালে, খোলা মাঠে বা মসজিদে বিশেষ ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এর পরে কুরবানীর অনুষ্ঠান হয়। পরিবার এবং পাড়া-প্রতিবেশীরা একসাথে একটি গরু, ছাগল বা মহিষ কিনে কুরবানী করে। এরপর মাংস আত্মীয়স্বজন এবং দরিদ্রদের মধ্যে ভাগ করে বিতরণ করা হয়, যা ঈদুল আযহার মূল শিক্ষা – দান এবং করুণার বাস্তব প্রতিফলন।
ইন্দোনেশিয়ায় ঈদুল আযহার আরেকটি প্রধান দিক হল সমাজসেবা এবং দানশীলতা। অনেকে দরিদ্রদের খাবার বিতরণ করে, আর্থিক সহায়তা প্রদান করে এবং সম্মিলিত খাবারের আয়োজন করে।
এই কার্যক্রমগুলি ধর্মীয় অনুভূতির পাশাপাশি সমাজে সাম্য ও করুণার বার্তা বহন করে। এভাবে, ইন্দোনেশিয়ায় ঈদুল আযহা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, বরং মানবতা, ত্যাগ এবং সম্প্রদায়ের প্রতি ভালোবাসার একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে ওঠে।