বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ অস্বীকার করলেন তানজিন তিশা

তানজিন তিশা
তানজিন তিশা

বিনোদন ডেস্ক
আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ অস্বীকার করলেন তানজিন তিশা। একের পর এক আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ ছিলো অভিনেত্রী তানজিন তিশার দিকে। গত অক্টোবরে দুটি ফ্যাশন হাউজের পর এবার কলকাতার একটি সিনেমার প্রযোজক তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছেন। ‘ভালোবাসার মরশুম’ নামের সেই সিনেমার প্রযোজক শরীফ খান অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন তিনি। এসব অভিযোগকে ‘ফালতু’ বলে মন্তব্য করেছেন তিশা।

এ বিষয়ে গতকাল সোমবার (২৪ নভেম্বর) দিবাগত রাতে অভিনেত্রী তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় পরিচালক এম এন রাজের সাথে আমার ভালোবাসার মরশুম সিনেমাটি করার কথা ছিল, সে বিষয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে কিছু ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে, যা আদতে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রটানো। প্রথমত, আমি যখন সিনেমাটি সাইন করি, আমার আইনজীবীর মাধ্যমে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করি। সেখানে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ ছিল, “আমার বিদেশ ভ্রমণ-সম্পর্কিত যাবতীয় দায়িত্ব পরিচালক ও প্রযোজকের।” অর্থাৎ ভিসা করানো, ফ্লাইটের জন্য টিকিট এবং সেখানে থাকা-খাওয়ার সকল দায়-দায়িত্ব তাদের।’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার হচ্ছে, তারা আমার ভিসা করিয়ে দিতে পারেনি। এমনকি আমি নিজেও ব্যাক্তিগত চেষ্টা করেছি, কিন্তু ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হই। ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতা যেহেতু চুক্তিপত্র অনুযায়ী পরিচালকের দায়িত্ব, তাই এই বিষয়ের জন্য আইন অনুযায়ী কোনো দায় আমার হতে পারে না। এটি পরিচালকের ব্যর্থতা।’

ভিসার জন্য দুই মাস অপেক্ষা করেছেন তিশা। এরমধ্যে তার চরিত্রে অন্য একজন অভিনেত্রীকে কাস্ট করেন পরিচালক। এমনটা জানিয়ে তিশা বলেন, ‘ওই সময়ে ২ মাস ভিসার জন্য অপেক্ষা করেছি এবং এর মধ্যে ভিসা হয়নি। ফলে এরইমধ্যে তারা অন্য একজনকে আমার সাথে চুক্তিবদ্ধ চরিত্রের জন্য যুক্ত করা হয় এবং তাকে দিয়ে অভিনয় করায়। আমি তার পরবর্তী সময়ে এসে বাংলাদেশের একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হই, বর্তমানে তার শুটিং চলমান।’

নির্মাতার ব্যর্থতা উল্লেখ করে তিশা বলেন, ‘একটি সিনেমা আমার জন্য আমার পেশাগত সম্মানের একটি জায়গা, যা আমি কখনোই নষ্ট করতে চাইনি বা চাইব না। কিন্তু যেহেতু পরিচালক তার ব্যর্থতার জন্য শিডিউল অনুযায়ী কাজ শুরু করতে পারেননি এবং নতুন একজনকে সেখানে চুক্তিবদ্ধ করে নিয়েছেন, তাই বাধ্য হয়েই আমাকে সেখান থেকে সরে আসতে হয়েছে। কিন্তু লাইন প্রোডিউসার শরীফ এখন একবার আমাকে বলছে এক-তৃতীয়াংশ টাকা ফেরত দিতে, আবার আমার আইনজীবীকে বলছে কিছু টাকা ফেরত দিলেই হবে, আবার সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে আমার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে, যা একটি অপচেষ্টা মাত্র। আমার সাথে যে চুক্তিপত্র হয়েছে, সেখানে পরিচালকের ভুলের কারণে কোনো সমস্যা হলে আমাকে টাকা ফেরত দিতে হবে- এমন কোন শর্ত নেই।’

সবশেষে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি সর্বদা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একজন মানুষ, আইন-আদালতে যদি তারা প্রমাণ করতে পারে যে আমি টাকা ফেরত দিতে বাধ্য এবং আদালত এমন নির্দেশনা প্রদান করেন, তাহলে আমি অবশ্যই তা মেনে নিব এবং টাকা ফেরত দিব।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page

প্রযুক্তি সহায়তায় রায়তাহোস্ট