নিজস্ব প্রতিবেদক
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টামুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, অন্তবর্তী সরকারের মেয়াদ কম থাকায় কোন বিনিয়োগ আসেনি। কেউ বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়নি। ফলে চাইলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে এ সময় তেমন কিছু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ ও ও জ্বালানিখাত উন্নয়নে অবশ্যই বিনিয়োগ দরকার। আমরা যার সঙ্গেই কথা বলেছি সরকারের মেয়াদ বিবেনচনায় নিয়ে কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী হয়নি।
রোববার বিদ্যুৎ ভবনের বিজয় হলে জ¦ালানি বিভাগের পাচঁটি এ্যাপস উদ্ভোধন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করতে গিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা বলেন, ‘ আমি সৌদি আরবে গিয়েছি সেখানকার ক্রাউন প্রিন্স, সৌদি রাজপরিবারে সঙ্গে আলোচনাকালে আমি তাদের বুঝিয়েছি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ ও জ¦ালানিখাতে অনেক পরিকল্পনা গ্রহন করেছে। অনেক বিনিয়োগ লাগবে। কিন্তু তারা আমাকে প্রশ্ন করেছে তোমার সরকারের মেয়াদ কতদিন? ফলে আর বিনিয়োগ আসেনি। তিনি আরও বলেন, আরেকটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বা এফএসআরইউ স্থাপনের জিটুজি ভিত্তিতে অনেক দূর আলোচনা করে এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত সেটাও করা সম্ভব হচ্ছে না।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘আমারা যদি আরেকটু ধৈর্য্য ধরতে পারতাম, বা সরকারের মেয়াদ যদি আরও একটু বেশি হতো তাহলে আরও ভাল কিছু করে যাওয়া যেতো।’
তিনি বলেন, ‘আমি আমার সম্পদের হিসাব জমা দিয়েছি, সেখানে গাড়ি বিক্রি করে দেওয়ার কারণে সম্পদ কিছু বেড়েছে। তবে আবার গাড়ি কিনলে আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।
এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, তবে আমরা দায়িত্ব নিয়ে দেনা পরিশোধ করেছি। অনেকগুলো কমিটি করে রিপোর্ট পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে যাচ্ছি। তারা চাইলে সেখান থেকে কাজ শুরু করতে পারে।
তিনি বলেন, আদানির চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়েছে, এখন সেটা আর্ন্তজাতিক আদালতে আইনজীবি নিয়োগ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর থেকে বিদ্যুৎ প্রাপ্তিতে প্রাইস নেসোসিয়েশন করে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ভাল প্রাইস পাওয়া গেছে। ভবিষতে এগুলো কাজে লাগবে। আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি করতে কিছু আমলার দূর্নীতির প্রমান পাওয়া গেছে সেটার প্রমানাদি আমরা আদালতে দিব পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, গত বছর রমজান এবং গ্রীষ্মে বলা হয়েছে প্রচন্ড লোডশেডিং হবে। কিন্তু আমরা চেষ্টা করেছি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে । সেটা করতে পেরেছি। এব বছরও আশা করছি গ্রীষ্ম, রমজান, সেচে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।
তিনি বলেন, আমরা এমন কিছু করবো না যাতে আমরা চলে গেলে পরবর্তী সরকারে জন্য খুব খারাপ কিছু হয়। এ বছর প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহন করে যাওয়া হচ্ছে। দেশে এখনো এলপিজি সংকট চলছে।
সেটার সমাধান কি হবে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, আসলে অনেক কোম্পানি এলপিজি আমদানির লাইসেন্স গ্রহন করলেও দেখা গেছে অধিকাংশ কোম্পানি এলপিজি আমদানি করে নাই।
তিনি বলেন, দেশের এলপিজি,র বাজারের ৯৮ শতাংশ বেসরকারি মালিকদের নিয়ন্ত্রনে। সরকারের মাত্র দুই শতাংশ। তিনি বলেন , এলপিজির দাম, নিয়ন্ত্রণ সবাই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) করে। তবে দেখা গেছে এলপিজি,র সোর্স কান্ট্রি এমনকি বিভিন্ন জাহাজের উপরও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থাকার কারনে এলপিজির সংকট হয়েছে। আশা করছি আগামী ফেব্রুয়ারির মধ্যে এলপিজি বাজার সমাধান হয়ে যাবে।