ভক্ত সেজে দুই ভরি স্বর্ণ হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক গ্রেপ্তার

নারায়ণগঞ্জের বারদী লোকনাথ মন্দিরের ভক্ত পরিচয়ে এক দম্পতির বিশ্বাস অর্জন করে প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় আত্মসাৎ করা অধিকাংশ স্বর্ণালংকার, গলানো স্বর্ণ, নগদ টাকা, দুটি মোবাইলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় খুলশী থানায় দায়ের হওয়া মামলার ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মাত্র ১৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য সরোয়ার সরদারকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। তার বাড়ি ঝালকাঠি সদর উপজেলার কৃষ্ণকাঠি এলাকায়। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার বদ্দারহাট এলাকায় বসবাস করছিলেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুলাই সকাল ১০টার দিকে সরোয়ার সরদার খুলশী থানার আমবাগান আবহাওয়া অফিসের দক্ষিণ পাশে ক্যাপ্টেন সাহেবের ভবনের নিচতলায় অবস্থিত অজিত ঘোষের বাসায় যান। তিনি নিজেকে নারায়ণগঞ্জের বারদী লোকনাথ বাবার মন্দির থেকে আসা একজন ভক্ত হিসেবে পরিচয় দিয়ে ‘জয় বাবা লোকনাথ’ বলতে বলতে দুই হাত জোড় করে বাসার মালিকের সঙ্গে কথা বলেন।
একপর্যায়ে তিনি বাবা লোকনাথের জন্য ১১ টাকা দিতে বলেন অজিত ঘোষের স্ত্রীকে। পরে আবার জানান, বাবা লোকনাথ টাকা নেন না, তিনি প্রসাদ ও ভাত গ্রহণ করেন। এরপর চাল আনতে বললে সরল বিশ্বাসে পরিবারের সদস্যরা তা এনে দেন। ধর্মীয় অনুভূতি ও বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে নানা কৌশলে দীর্ঘ সময় ধরে কথাবার্তা বলে তিনি দম্পতির আস্থা অর্জন করেন। এরপর সুযোগ বুঝে বাসায় থাকা প্রায় দুই ভরি এক আনা ওজনের স্বর্ণালংকার নিয়ে সটকে পড়েন।
প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে অজিত ঘোষ খুলশী থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিএমপির কোতোয়ালি থানার হাজারী গলি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার ১৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরোয়ার সরদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামির কাছ থেকে তিন জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি সীতা হারের পাঁচটি অংশ, একটি স্বর্ণের লকেট, গলানো স্বর্ণ, ১৪ হাজার টাকা, দুটি স্মার্টফোন এবং একটি ছাতা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট পরিমাণ প্রায় এক ভরি আট আনার বেশি। এ ছাড়া জব্দ করা হয়েছে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে খুলশী থানার ওসি মোজ্জাম্মেল হক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামির কাছ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এ প্রতারণার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








